জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
স্বরলিপিকার · ১৮৪৯–১৯২৫ · ১২১টি গানের স্বরলিপি
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পঞ্চম পুত্র, জন্ম ১৮৪৯। জ্যোতিরিন্দ্রনাথই সেই দাদা যিনি রবীন্দ্রনাথের জন্য জায়গা করে দিয়েছিলেন। জোড়াসাঁকোর সংগীতচর্চার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি, পিয়ানোয় বসে ছোট ভাইয়ের প্রথম দিকের গানে সুর বসাতেন, ‘ভারতী’ সম্পাদনা করতেন, লিখতেন ঐতিহাসিক নাটক — পুরুবিক্রম, সরোজিনী, অশ্রুমতী — এবং কালিদাস, মলিয়ের ও শেক্সপিয়র বাংলায় অনুবাদ করেন।
এই আর্কাইভের কাছে তাঁর গুরুত্ব এর চেয়ে সংকীর্ণ, আবার এর চেয়ে বড়: বাংলা গানকে লিখে রাখার উপায় যাঁরা তৈরি করেছিলেন, তিনি তাঁদের একজন। ১৮৮০-র দশকে তিনি সংখ্যামাত্রিক ও আকারমাত্রিক স্বরলিপি-পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, আর ১৮৯৭ সালে প্রকাশ করেন ‘স্বরলিপি গীতিমালা’ — ১৬৮টি গানের স্বরলিপি, যার ৬৮টি রবীন্দ্রনাথের। কবির সুর কাগজে ধরে রাখার এটিই প্রথম বড় উদ্যোগ; সেই আকারমাত্রিক ধারাই আজও বিশ্বভারতীর ছাপা স্বরলিপি।
তিনি ছিলেন নিরলস চিত্রকরও — প্রায় দু’হাজার পেনসিল-প্রতিকৃতি রেখে গেছেন, তার মধ্যে লালন ফকিরের একমাত্র সমকালীন ছবিটিও। ১৯২৫ সালে রাঁচিতে তাঁর মৃত্যু।
সূত্র
- জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বরলিপি গীতিমালা (১৮৯৭)
- Banglapedia — Tagore, Jyotirindranath
- Banglapedia — Swaralipi (the history of Bengali notation)